#পূর্ণতা” ২৩.
আশালতা বেগম এসেছিল পূর্ণতা কে আয়রার বিয়েতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পূর্ণতা তার কথার মান রাখেনি। কিন্তু এখন মায়ার সাথে সেই রাজশাহী ওকে যেতে হচ্ছে। তাও আয়রার শশুর বাড়ি। মায়ার ফুফাতো ভাইয়ের কি মেয়ের অভাব পড়েছিল আয়রা কেই কেন পাত্রী হতে হলো। পূর্ণতা দুশ্চিন্তায় মুখটা অন্ধকার করে বসে আছে। কি করবে ওর মাথা কাজ করছে না। খুব অসহায় লাগছে ওখানে যাওয়ার পর সবার সাথে দেখা হবার পর কি হবে? সেই চিন্তায় ও শান্ত থাকতে পারছে না। কিছুক্ষণ আগেই মিস্টার স্মরণের সাথে তর্ক করে পুর্ণতা সিটে এসে বসেছে। এরপর মায়ার ঘুম ভাঙতেই ও হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকে বর কনের ছবি ওকে দেখিয়েছে। ছবি দেখে তো ওর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে। শুকনো ঢোক গিয়ে বিস্মিত নয়নে তাকিয়ে ছিল ছবির দিকে। মায়াকে এখনো বলতে পারেনি ওটা ওর ননাসের মেয়ে সম্পর্ক এখন নেই ঠিক কিন্তু সবাই তো ওর পরিচিত তাদের বাসায় না গিয়ে এখানে উপস্থিত থাকবে বিষয়টা খুব বাজে দেখা যায়। ও কি করবে কিছুই বুজতে পারছে না মাঝরাস্তা থেকে এখন ফিরে কীভাবে যাবে। পূর্ণতা হাঁসফাঁস করে উঠে দাঁড়াল। মায়া ওর হাত ধরে বলল,“ কি হয়েছে তোর?” পূর্ণতা ফের বসে বলল,“ ভালো লাগছে না আমি সামনের স্টেশনে নেমে ঢাকা ব্যাক করি?” “ কি বলছিস? মাথা ঠিক আছে তোর এখন ফিরে যাবি মানে কি?” পূর্ণতা কি বলে ম্যানেজ করবে দিশা খুঁজে পাচ্ছে না। অসহায় মুখ করে মায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। মায়া এবং ওর হাজব্যান্ড উঠে ওয়াশরুমের দিকে গেল। জায়গা ফাঁকা হতেই স্মরণ পূর্ণতা কে জিজ্ঞেস করল,“ এনি প্রবলেম? তোমাকে এতো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত লাগছে কেন?” “ নো প্রবলেম।” স্মরণ পূর্ণতার একঘেয়েমি কথায় বলল,“ বলো হয়তোবা আমি তোমার হেল্প করতে পারব।” “ আপনার থেকে কোন হেল্প নেওয়ার প্রয়োজন নেই আমার।” “ জেদ না দেখিয়ে বলো। তোমার প্রবলেম সলভ হয়ে যাবে। সবসময় জেদ দেখিয়ে লাভ নেই বরঞ্চ ক্ষতি।” পূর্ণতা স্মরণের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখেমুখে দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রকাশ পাচ্ছে। দুটানায় ভুগছে পূর্ণতা। স্মরণ ওর দ্বিধাগ্রস্ত চেহারা দেখে বলল,“ নিজের ভালো পাগলেও বুঝে। বলো...” “ কি বলব?” থতমত খেয়ে ডলল পূর্ণতা। “ তুমি যা বলতে পারছ না।” " তেমন কিছুই না। আমি শুধু রাজশাহী যেতে চাচ্ছি না যেকোন ভাবে ঢাকা ব্যাক করতে চাইছি‌।” " কেন সমস্যা কি তোমার আত্নীর বাড়িও তো আছে গিয়ে সেখানেও ঘুরে এসো।” পূর্ণতা রাগী চোখে তাকাল স্মরণের দিকে। স্মরণ ওর চোখেমুখে কঠিন রাগ দেখে অবাক হয়ে বলল," কি হলো এতো রাগ করছো কেন? ভুল কি বললাম?” " না‌ জেনে কথা বলবেন না। আমার কোন আত্নীয় নেই রাজশাহী।” স্মরণ চমকিত বিস্মিত কন্ঠে বলল, " মিথ্যা বলছে কেন আমি তোমাকে যে বাসায় দেখেছিলাম ওটা কার বাসা?” পূর্ণতা কিছু বলতে যাবে মায়া আর ওর হাজব্যান্ড এসে বসল। পূর্ণতা চুপটি করে বসে আছে। স্মরণ বিড়বিড় করে নিচু স্বরে পূর্ণতা কে বলল,“ তুমি চাইলে আমি তোমাকে হেল্প করতে পারি। কিন্তু...” পূর্ণতা অবাক কন্ঠে বলল,“ কিন্তু?” “ একটা শর্ত আছে, যদি রাজি থাকো তোমাকে রাজশাহী যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে দেব।” “ ইম্পসিবল আমি আপনার কোন শর্তে রাজি না। আমি এতোটাই গাধা না।” " ওকে যেচে পরে সাহায্য করতে এসেছি তো তাই এটিডিউট বেড়ে গেছে। তোমার প্রবলেম তুমিই সলভ কর আমার কি?” পূর্ণতা বড়ো বড়ো চোখ করে স্মরণে দিকে তাকিয়ে থেকে জানালার বাইরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল। ও কল্পনা করল বিয়ে বাড়িতে ওকে দেখে সবাই কতটা শক হবে। আশালতা বেগম ওকে নিতে আসছিল ও তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। তার কথার মান রাখেনি এখন আবার সেখানেই যাচ্ছে কতটা কষ্ট পাবেন তিনি। পূর্ণতা লজ্জায় তাদের সামনে মুখ দেখাবে কীভাবে? আয়রাই বা কি ভাববে ওকে? পূর্ণতা সব কিছু কল্পনা করে খুব ভয় লাগতে শুরু করল। যাবে না কম কাহিনী করে নি এখন কীভাবে সেখানে যাবে। পূর্ণতা অসহায় মুখ করে জানালা থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে তাকাল স্মরণের দিকে। স্মরণ চোখ বন্ধ করে আছে। পূর্ণতা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। আচমকাই স্মরণ চোখের পাতা খুলে তাকালো দেখল পূর্ণতা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। স্মরণ ভ্রু নাচিয়ে কি জিজ্ঞেস করল। পূর্ণতা মাথা নিচু করে ফেলল। এই অসহ্যকর মানুষটার থেকে হেল্প নিতে ইচ্ছে করছে না‌ কিন্তু তিনি ছাড়া আর উপায় নেই। পূর্ণতা‌ ইশারায় নিজে সব শর্তে রাজি এবং ওকে যেভাবে হোক রাজশাহী থেকে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলল। স্মরণ পূর্ণতার দিকে ঝুঁকে ফিসফিস করে দুষ্টুমি কন্ঠে বলল,“ এতো সহজেই রাজি হয়ে গেলে আমার শর্তে। এখন যদি বিয়ের শর্ত দেই কি করবে?” পূর্ণতা শক্ত চোখে তাকাল স্মরণের দিকে। স্মরণের চোখেমুখে দুষ্টু হাসি খেলা করছে। স্মরণ চোখ বুজে মাথা নাড়িয়ে বলল,“ নিশ্চিন্তে থাকো তোমাকে রাজশাহী একেবারে বিয়ে করে নতুন ব‌উ বানিয়ে নিয়ে আসব। এর আগে আর রাজশাহী শহরে তোমার চরণের ধুলো পড়বে না।” পূর্ণতা রক্ত চক্ষুকরে তাকাল স্মরণের দিকে। কটমট তার দৃষ্টি। দিদান দাঁড়িয়ে আছে একটা চায়ের দোকানে বাসায় আজকে লঙ্কা কান্ড ঘটিয়ে বেরিয়ে এসেছে এই মুহূর্তে কোথায় যাবে ও জানে না। শশুর বাড়িতে যে কান্ড ঘটিয়ে এসেছে তারা ও ওকে ঢুকতে দিবে বলে মনে হয় না। ওই বাসায় আর ঢুকতে পারবে না ও। এটা নিশ্চিত। আজকে সকালের ঘটনা ঘুম থেকে উঠেই দিদান দেখেছে শশী আর একটা ছেলে বসে আছে। খুব ঘনিষ্ঠ ভাবেই বসে আছে এটা দেখেই দিদানের মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। লোকটার কথার তালে শশীর গায়ে হাত দিচ্ছে আর শশী বেকুবের মতো লোকটার সাথে হেঁসে হেঁসে কথা বলছে। শশীর সামনে গিয়ে দিদান দাড়াতেই শশী নিজেকে লোকটার থেকে দূরে সরিয়ে বলে," দিদান পরিচিত হ‌ও আমার খালাতো ভাই ইউএস থাকে কিছুদিন হলো দেশে এসেছে। অনেকদিন পর ও সাথে দেখা হলো।” দিদান চোখমুখ কঠিন করে দাঁত দাঁত চেপে বলল,“ আসসালামু আলাইকুম।” লোকটা শশীর দিকে তাকিয়ে বলল,“ দুলাভাই নাকি?” শশী মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়। দিদান গম্ভীর মুখে রুমে চলে আসে‌। শশী রুমে আসতেই দিদান ওর হাত চেপে ধরে বলে," লোকটা বাজে ভাবে তোমাকে স্পর্শ করছিল তুমি তাও তার সাথে বসে ছিলে কেন?" " দিদান তুমি কিন্তু বাজে কথা বলছ আমার খালাতো ভাইকে নিয়ে।" " যে খারাপ তাকে নিয়ে খারাপ কথা বলব না তো কি বলব?" " আর একবার আমার খালাতো ভাইকে নিয়ে খারাপ কথা বললে ভালো হবে না বলে দিচ্ছি।" " কি করবে তুমি?" শশী দিদানের গায়ে হাত তুলতে গেলে দিদানের মাথায় আগুন ধরে যায়। একেতে অপরাধ করেছে আবার উঁচু গলায় কথা বলছে‌। দিদান এলোপাথাড়ি শশীকে মারতে লাগে। এই বাসায় আসার পর থেকে শশীর অনেক মার খেয়েছে দিদান কথার এদিক ওদিক হলেই হাত তুলেছে গায়ে। দিদান নিজেকে আর সামলাতে পারল না মনের যত রাগ ক্ষোভ ছিল সব যেন বেরিয়ে আসতে লাগল। শশীকে ভেতরে জমিয়ে রাখা সমস্ত রাগ নিয়ে মারতে লাগল। শশী যতোই গলা বাজি করুক একজন পুরুষ মানুষের শক্তির সামনে ওর শক্তি কিছুই না। দিদানের ভয়ংকর রুপ দেখে শশী স্তব্ধ। অসুরের মতো মার খেয়ে শশী চিৎকার করে বাসা মাথায় তুলল। বাসার সবাই জড়ো হয়ে গেল দিদান আর শশীর রুমের সামনে। সবার সমাগম পেতেই দিদান মারামারি থামালো। শশী বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে। দিদান লজ্জিত চোখে সবার দিকে এক নজর চেয়ে আলমারি থেকে শার্ট বের করে পরে বাসা থেকে বেরিয়ে আসে মাথা নিচু করে। কারো সাথে কোন কথা বলার মুখ নেই। আর না ওর বলার ইচ্ছে আছে। পকেটে কোন টাকা পয়সা নেই দিদানের। দিদান রোদের মধ্যে হেঁটে চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে মুখে চিন্তার ছাপ। শশীর সাথে সংসার করার ইচ্ছা নষ্ট হয়ে গেছে‌। মায়ের অবাধ্য হয়ে দিদান কে সেকেন্ডে সেকেন্ডে পস্তাতে হচ্ছে। শশীর বাসায় আর ফিরতে চায় না ও। আজকে ও মায়ের কাছে ফিরে যাবে মায়ের পা ধরে বসে থাকবে মায়ের মনটা কি ছেলের জন্য নরম হবে না? কতদিন কঠিন করে রাখবে? আজকে একবার শেষ চেষ্টা মায়ের হৃদয়টা নরম করতে চেষ্টা করবে। দিদান বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। টাকা হাতে নাই তাই একটা ফ্রেন্ড কে কল করে বলল বিকাশে কিছু টাকা‌ পাঠাতে। #চলবে.... গল্পটি সম্পর্কে রিভিউ, আলোচনা, সমালোচনা করুন । Sornali Entertainment