রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, মাথার ওপর চাঁদটা তার অপার শীতল আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। হালকা বাতাস বইছে। হঠাৎ করেই ঘরের ভেতর থেকে কেমন একটা শব্দ শুনলাম। কান খাড়া করতেই বুঝতে পারলাম, মামী আর নানুর গলার স্বর উঁচু হয়ে গেছে।


আমি আস্তে পা ফেলতে ফেলতে ঘরের কাছে গেলাম। দরজাটা ভেজানো, তাই পুরোপুরি না খুলে পাশে দাঁড়িয়ে শুনতে লাগলাম।


নানু: আমি আবার বলতেছি, তোর এত বাইরে বাইরে ঘোরাঘুরি ঠিক না। মানুষ কী বলবে?


মামী: আম্মা, ও তো আমার ভাতিজা। ও আসছে অনেকদিন পরে, একটু ওকে কোথাও নিয়ে গেলে কী এমন হয়?


নানু: সমাজ কি বলবে সেটা তুই বুঝিস না? আজকাল মানুষের মুখে লাগাম নাই। এমনিতে তোর স্বামী বাইরে, তার উপর আবার এমন ভাবে চলাফেরা করলে বদনাম হবেই।


মামী: আম্মা... আমি কি খারাপ কিছু করতেছি? এই ঘরে কি আমি বন্দি থাকবো শুধু?


নানুর চুপ করে যাওয়াটা যেন পুরো ঘরটাকেই এক মুহূর্তে থমকে দিলো। আমি ধীরে ধীরে পিছিয়ে এলাম। মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো একটা চিন্তা—এই মামীটা আসলে কতটা একা? কতটা অপমান, অভিমান জমে আছে তার ভেতরে?


পরদিন সকাল।


মামী খুব ভোরে উঠে গেছে। আমি যখন ঘুম ভেঙে উঠলাম, দেখি ঘরের দরজা খোলা, জানালা দিয়ে আলো এসে পড়ছে বিছানার ওপর। দূর থেকে রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে লম্বা একটা ঘোমটা টেনে রাখা মামী কিচেনের কাজ করছে।


আমি ফ্রেশ হয়ে নেমে এলাম।

আমি: মামি, উঠছো এত ভোরে?


মামী: তুমি তো বলছিলে না, সকাল সকাল বের হতে? তাই সব কাজ আগেই শেষ করছি। নাস্তা খেয়ে রেডি হয়ে নিও।


আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। শাড়ির আঁচলটা আজ পিঠের ওপর দিয়ে ঘোমটার মতো টানা। কপালে সিঁদুর, তবে মুখে একটা অদ্ভুত ক্লান্তি।


নাস্তা শেষে বের হলাম আমরা। মামী একটা কালো স্কুটি বের করলো। আমি অবাক হয়ে বললাম—


আমি: মামি, তুমি স্কুটি চালাতে পারো?


মামী হেসে: শিখেছিলাম। মাঝে মাঝে চালাই, তবে খুব বেশি না।


আমি (মুচকি হেসে): তোমাকে দেখে তো মনে হচ্ছে তুমি বাইকার হতে পারতে।


স্কুটি চলতে শুরু করলো। শহরের রাস্তাগুলো এখনো ব্যস্ত হয়ে ওঠেনি, মাঝেমাঝে হালকা বাতাস এসে গায়ে লাগছে। আমি পেছনে বসে, দুহাত দিয়ে হালকা করে ধরে আছি। মামী মাঝে মাঝে আড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছে, আমি বুঝতে পারছিলাম।


আমরা পৌঁছালাম একটা শপিং মলের সামনে। মামী বললো—


মামী: চল, আজ তোর পছন্দের মোবাইলটা কিনে দেই।


আমি (হতবাক হয়ে): তুমি জানলে কীভাবে?