দয়া করে আমাকে ছেড়ে দেন।আমি কথা দিচ্ছি কোনো দিন আপনার কাছে স্ত্রীর অধিকার নিয়ে আসবো না।
আমাকেছেড়ে দেন।আমার ক*ষ্ট হচ্ছে। গ*লা*কা*টা মু*র*গি*র মতো আরু ছটফট করতে করতে সে*ন্স*লে*স হয়ে যায়। এদিকে আব্রাহাম হাত থেকে বেল্ট টা নিচে ফেলে দিয়ে বিছানায় বসে নিজের মাথার চুল খা*ম*চে ধরে বলে,
তোর সা*হ*স কি করে হয় ,আমাকে ফাঁ*সি*য়ে বিয়ে করার। কি ভেবেছিস,আমার বাবা মাকে ফাঁ*সি*য়ে আমাকে বিয়ে করলেই তুই এ বাড়িতে রাজ রানি হয়ে থাকবি। তোর মতো রাস্তার মেয়ে কে আমি আব্রাহাম কখনো তোকে স্ত্রীর অধিকার দিবো না। তোকে ক্ষমা করবো না তোর জিবন টা ন*র*কে পরিণত করার দায়িত্ব আমার।
__________
মুখে পানি পড়াই ধরপর করে উঠে বসে,আরু। মুখের পানি মুছে সামনে তাকিয়ে দেখি,
আব্রাহাম ভাই দাঁড়িয়ে আছে তার হাতে পানির জগ । তার মানে সেই আমার মুখে পানি ঢেলেছে।
আমাকে তার দিকে তাকাতে দেখে আব্রাহাম বলে ওঠে,
কিরে ফ*কি*ন্নি, বেলা ১০ পর্যন্ত ঘুমাচ্ছিস তাহলে বাড়ির কাজ গুলো সব করবে কে।
আব্রাহাম ভাইয়ের কথা শুনে আমার ভ*য়ে মুখ টা শুকিয়ে গেল। আমি কোনো রকম উঠে বসে বলি,
“”আমি এখনই যাচ্ছি।
উঠে বসতে গিয়ে পায়ে আর পিঠে ব্যা*থা অনুভব করলাম।কাল রাতের মা*রে*র জন্য পুরো শরীরটা বি*শ ব্যা*থা*য় জ*র্জ*রি*ত।
__________&__
আমি আরু আমি এ*তি*ম । আমার বাবা মা আমার জন্মের পর আমাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যায়। বড় বাবা আর বড় মা রাস্তা থেকে আমাকে কুড়িয়ে আনে। তাড়াই আমাকে তাদের বাড়িতে এনে লালন পালন করে। আর এ বাড়ির বড় ছেলে আব্রাহাম খাঁন। সে একজন ভার্সিটির প্রফেসর। গ*ম্ভী*র মুখে আমি খুব কম সময়ে হাঁসি দেখেছি। শান্ত মেজাজে কি ভাবে বাঁ*শ দিতে হয়, সে ব্যাপারে সে এক্সপার্ট।
আমি এবার ইন্টার পরীক্ষা দিয়েছি। কাল আমার পরিক্ষা শেষ হয়েছে।আর বাড়িতে আসতেই বড় মা আমাকে তার রুমে ডাকে । আমি বড় মার রুমে যেতেই আমাকে বড় মা একটা লাল টুকটুকে শাড়ি দিয়ে বলে,
“”আরু এই শাড়ি টা পড়ে আই তো মা ।
“” কেন বড় মা । এখন কেন শাড়ি পারবো।আমার অনেক গরম লাগছে আমি গোসল করব তো।
“”গোসল করবি তে কর ।আমি মানা করেছি কি ।
গোসল শেষে শাড়িটা পড়ে আয়।
“”কেন?
“”আরু দিন দিন তুই আমার মুখের উপর কথা বলা শুরু করেছিস। তোকে শাড়ি পড়তে বলেছি শাড়ি পরবি আর কোনো কথা শুনতে চাই না। গ*ম্ভী*র গলায় কথা গুলো বলেন আশা বেগম আরুকে।
এদিকে আশা বেগম এর কথা শুনে আরুর চোখে পানি ট*ল, ট*ল করছে। সে মাথা নিচু করে আসতে আসতে রুম থেকে নিজের রুমে ফিরে যায়।
এ বাড়িতে বড় মা আর বড় বাবা ছাড়া কেউ আমাকে পছন্দ করে না। ছোট মা তো দেখলেই নাক ছি*ট*কে মনে হয় আমি কোনো নোং*রা আ*ব*র্জ*না তাই আমাকে সব সময় দুর দুর করে।
আচ্ছা আমার বাবা মা কে আমার দেখার অনেক ইচ্ছা। সবার বাবা মা আছে আমার কেন নেই। আমার বাবা মার কি আমার কথা একবারও মনে হয় না। আমি তো জানি মায়েরা সন্তান এর জন্য সব করতে পারে ।তাহলে আমাকে কেন রাস্তায় ফেলে গেল।
নিজের রুমে ঢুকে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।আমার এ বে*হা*য়া চোখে মনে হয় সাগর আছে। এ তো পানি পড়ে তাও এ চোখের পানি ফুরইনা। গোসল করে শাড়ি টা পড়ে ভেজা চুল গুলো ফেনের বাতাসে শুকিয়ে চুল গুলো কে খোঁপা করে বড় মার রুমের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ আব্রাহাম ভাইয়ের সাথে ধা*ক্কা লেগে পড়ে যায় মেঝেতে। এদিকে বি*র*ক্ত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
“”চোখ নাই নাকি তোর । দেখে চলতে পারিস না । বলেই চলে গেল সে।
আমি উঠে দাঁড়িয়ে তার যাওয়া দেখছি।এ মানুষ টা আমাকে দু চোখে স*হ্য করতে পারে না আর আমি তাকে দু চোখ ভরে দেখি।
বড় মার রুমে যেতেই বড় মা আর বড় বাবা আমাকে তাদের পাশে বসিয়ে বলে,
আরু মা আমাদের ওপর কি তোর ভরসা আছে।
আরু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, এ দুই মানুষের জন্যই তো ও আজ এ পৃথিবীতে বেঁচে আছে।সে বলে,
বড় মা বড় বাবা তোমরা না থাকলে কি আর আমি এ পৃথিবীতে থাকতাম। তোমরা আছো বলেই আমি আছি।আর তোমাদের ভরসা করবো না তে কাকে ভরসা করবো বলো। আমি জানি তোমরা আমার জন্য সে সিদ্ধান্ত নিবাস সে টা আমার ভালোর জন্য ।আমার আস্থা আছে তোমাদের ওপর।
আরুর কথা শুনে আব্রাহাম এর মা বাবা মুখে একটা প্রাপ্তির হাঁসি ফুটে ওঠে। তারা আরুকে বলে,
আরু মা তোর কি কোনো পছন্দের মানুষ আছে।
কথা টা শুনে আমার মনে আর মস্তিস্কে আব্রাহাম ভাই এর কথা আর চেহারা ভেসে ওঠে। আমি বড় মা বড় বাবার দিকে তাকিয়ে বলি,
না আমার তেমন কেউ নেই। আর থাকলে তো তোমাদের জানতাম তাই না। আচ্ছা তোমরা এ সব কথা কেন বলছো ।
আমার কথা শুনে বড় বাবা আর বড় মা দুজন দুজনকে চোখের ইশারায় কথা বলছে।
আমি তাদের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছি। কিছুক্ষণ পর বড় বাবা বলেন,
আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি,
আরু বলে, কি সিদ্ধান্ত বড় বাবা।
আমি তোর আর আব্রাহাম এর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বড় বাবার কথা শুনে আমার বুকের মধ্যে ধুকপুকানি শুরু হয়ে যায়। আব্রাহাম আর আমার বিয়ে কথা টা মস্তিস্কে আসতেই আমার মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে উঠে, যে মানুষ টা আমাকে ক*ষ্ট দিয়ে আমাকে সব সময় ক*টু কথা শুনাতে পছন্দ করে। মে মানুষ টা আমাকে পছন্দ করে না সে আমাকে বিয়ে করবে এ টা আমার বিশ্বাস হয় না।আমার গলা শুকিয়ে গেছে। আমি ফাঁ*কা ঢ*ক গিলে বললাম,
বড় বাবা কি সব বলছো, আমার আর বড় ভাইয়ার। বিয়ে
হুম ঠিক বলেছি আমি , কেন তোর কোনো আপত্তি আছে কি। আমার জানা মতে তো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয় ।
বড় মা বলে , শোন আরু আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোর ভালোর জন্য । বিশ্বাস রাখ এতে তোর ভালোই হবে মা ।
আমি শুধু দুজনের মুখে দিকে তাকিয়ে দেখি তারা অধির আগ্রহে তাকিয়ে আছে আমার কথা শুনাতে জন্য। আমি তাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল, তোমরা যা করবে তাই হবে। আমার কোনো আপত্তি নেই।
এর পরেই এশারের নামাজের পর আমার আর আব্রাহামের বিয়ে হয়।
গরম পানি করতে দিয়ে কালকের কথা গুলো ভাবছিলাম। হঠাৎ আমার গালে একটা চড় পড়াই আমি চমকে উঠি। সামনে তাকিয়ে দেখি,
চলবে,
গল্প_হারিয়ে_গেলে_খুজবে_না_তো
সিজিন_২ পর্ব_১
Sornali Entertainment
