তোমার নামের রৌদ্দুরে ❤
||অতিরিক্ত অংশ||
আমি নিচে গিয়ে দেখলাম। খালামণি আর বাবাই এসেছে। আমাকে দেখে বাবাই বললো,
---"এই তো অন্তী মণি এসেছে।"
আমাকে দেখে আম্মু কড়া গলায় বললো,
---"তোকে কতোক্ষণ ধরে নিচে আসার জন্য ডাকছি। আসছিস না কেন?"
---"আহ্। বকছিস কেন? অন্তী তুই আমার কাছে আয়।"(খালামণি)
আম্মু চলে গেল রান্না ঘরে। আর বাবাই আর আব্বু নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। আমি খালামণির কাছে গিয়ে খালামণিকে জড়িয়ে ধরে আহ্লাদী গলায় বললাম,
---"ভালো আছো খালামণি?"
---"ভালো আর থাকি কিভাবে! তুই চলে এসেছিস। তোর বাবাই তো সারাদিন অফিসেই থাকে সারাদিন অফিসেই থাকে। আমার তো কথা বলার মতোও কেউ নেই। সারাদিন একা একা বসে থাকতে ভালো লাগে না।"
আমি খালামণির কাঁধে মাথা রেখে বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বললাম,
---"আসলে বাড়ির জন্য খুব মন খারাপ করছিল।"
খালামণি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,
---"আচ্ছা সত্যি করে একটা কথা বলতো, তোদের দুই জনের মধ্যে কি হয়েছে? তুই হুট করে এই বাসায় চলে এলি। আর ঈশানকেও দেখছি তুই আসার পর থেকে কেমন মন মরা হয়ে আছে। না ঠিক মতো কথা বলছে না ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করছে। তোদের মধ্যে কি হয়েছে বলতো।"
আমি বললাম,
---"তুমি শুধু শুধুই চিন্তা করেছো। আমাদের মধ্যে কিছু হয়নি। ঈশান ভাইই মানে ঈশাননের সাথে তো একটু আগেও আমার ফোনে কথা হলো। আমাদের মধ্যে কিছু হয়নি। আসলে ও একটু অফিসের কাজে ব্যস্ত আছে তো তাই হয়তো!"
---"ও। হয়তো। তোদের এখনকার জেনারেশনের ছেলেমেয়েদের মতিগতি আমি কিছু বুঝি। কাজের চাপে থাকলে খাওয়া দাওয়া বাদ দিতে হবে!"
আমি মুচকি হেসে বললাম,
---"ঈশান ভাইয়া তো এরকমই।"
---"হুঁ। তা তুই আমাদের সাথে আজকে বাসায় ফিরে যাবি তো?"
আমি বললাম,
---"কিছু দিন এ বাসায় থাকি না। অনেক দিন তো তোমাদের বাসায় থাকলাম।"
আমার কথায় খালামণি ধমকের সুরে বললো,
---"আমাদের বাসা কি হ্যা ওটাও তো তোরই বাসা।"
আমি মুচকি হেসে বললাম,
---"হুঁ তবে আমি এখন যাবো না। প্লীজ কিছুদিন এখানেই থাকি।"
খালামণি হেসে বললো,
---"আচ্ছা ঠিক আছে।"
খালামণি বাবাই কিছুক্ষণ গল্প-টল্প করে রাতের খাবার খেয়ে চলে গেল। আম্মু-আব্বু আজকে থেকে যেতে বললো ওদেরকে কিন্তু ওরা থাকলো না।
৪২.
আমি পড়ার টেবিলে বসে কালকের কোচিং এর পড়াগুলো রেডি করছিলাম। এভাবে আর কতদিন চলবে? আমাকে এখন থেকে নিজের লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে হবে। আমাকে নিজের কাছে নিজেকে প্রুভ করতে হবে । এতো দিন লাইফের কোন হাল ধরিনি। জীবন আমাকে যে দিকে নিয়ে চলেছে আমিও সেই দিকেই চলেছি। কিন্তু আর না এবার থেকে আমি আমার লাইফটাকে কন্ট্রোল করবো। সবাইকে দেখিয়ে দিবো চাইলে আমিও সবকিছু করতে পারি। আমার ভাবনার মাঝেই আমার ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখলাম কালো পাঞ্জাবি পরিহিত ঈশান ভাইয়ার ছবি ভাসছে। আমি ফোনটা রিসিভ না করে রেখে দিলাম। কিন্তু ঈশান ভাইয়া লাগাতার ফোন দেওয়ার কারণে আমি এক প্রকার অসহ্য হয়েই ফোনটা রিসিভ করলাম।
---"বার বার ফোন করে ডিস্টার্ব করছো কেন?"
---"আম্মু-আব্বু তোকে নিতে গেল। তুই এলি না কেন?"
---"কেন যাবো আমি?"
---"কেন যাবি মানে? তুই আমি আমাদের বাসায় আর আসবিই না?"
আমি রাগ প্লাস বিরক্তি মিশ্রিত কন্ঠে বললাম,
---"বলছি তো আমি আর তোমাদের বাসায় যাবো না। তার পরেও বার বার ফোন করে কেন বিরক্ত করেছো?"
আমার কথায় ঈশান ভাইয়া ক্ষীণ গলায় বললো,
---"আমি ফোন করলে তুই বিরক্ত হোস।"
---"অবশ্যই বিরক্ত হই। সো প্লীজ দয়া করে আমাকে আর ফোন করে ডিস্টার্ব করো না।"
কথাটা বলেই আমি ফোনটা কেটে দিলাম। ঈশান ভাইয়া আবার ফোন দিচ্ছে। তাই আমি এবার ফোনটা সুইচড অফ করে দিলাম। ঈশান ভাইয়ার ব্যবহারে আমি সত্যিই খুব কনফিউজড। উনি আসলে কি চাইছেন?অরিন আপু তার সাথে ব্রেকআপ করে আমেরিকা চলে গেছে কোথায় সে তার শোকে কাতর থাকবে। তা না সে আমার পেছনে পরে আছে। ব্যাপারটা সত্যিই খুব ভাবাচ্ছে আমায়। আমি আর বেশী কিছু ভাবলাম না। কারণ এসব ভাবলে আমি আর লেখা পড়ায় মনোযোগী হতে পারবো না। আই হ্যাভ টু প্রুভ মাই সেল্ফ।
৪৩.
সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে সমগ্র পৃথিবীর মতো আমিও ছুটে চলছি অবলীলায়। প্রায় দুই সপ্তাহ হয়ে গেছে আমি ঈশান ভাইয়াদের বাসা থেকে চলে এসেছি। ঈশান ভাইয়া সেদিনের পর ঈশান ভাইয়া আর আমাকে ফোন করেনি। হয়তো অরিন আপুর সাথে প্যাচ আপ হয়ে গেছে। খালামণির সাথে প্রতিদিনই আমার ফোনে কথা হয়। খালামণি আমাকে বাসায় ফিরে যেতে বলে। আমাকে ছাড়া নাকি বাসাটা খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগে। বাবাই ও নাকি তাই বলে। আমি খালামণিকে বলেছিল, একেবারে পরীক্ষা শেষ হলে আমি এখান থেকে যাবো। জানি যদিও আর কখনো ফেরা হবে না। তবুও অসুস্থ মানুষটাকে একটু হাসিখুশি দেখতে ভালো লাগে। সবাই যখন আমার আর ঈশান ভাইয়ার এমন সম্পর্কের কথা জানবে জানি না তখন তারা বিষয়টা কিভাবে নেবে! একদিকে খালামণি অসুস্থ অন্যদিকে আব্বুও হার্টের রোগী। তার একমাত্র মেয়ের এমন দাম্পত্য জীবনের কথা জানলে আদৌও তিনি সেটা সহ্য করতে পারবেন কি না কে জানে? তবুও সবাইকে তো সবটা জানাতেই হবে। ভেবেছি পরীক্ষাটা শেষ হয়ে গেলেই সবাইকে সবকিছু বলে দিবো। আর ঈশান ভাইয়াকেও এই দোদুল্যমান অবস্থা থেকে চিরদিনের মতো মুক্তি দিয়ে দেব।
||
বিকাল বেলা ছাদের বসে একটা কমিক বই পড়ছিলাম। সারাক্ষণ হে হে করা এই আমিটাকে একটু আজকাল একটু হাসার জন্য কমিক বই পড়তে হয়। আমার ভাবনার মাঝেই হঠাৎ করে আমার ফোনটা বেজে উঠলো। আমি ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখলাম একটা আননোন নাম্বার। এই নাম্বারটা থেকে গত কয়েক দিন ধরেই ফোন আসছে। আমি রিভিস করে হ্যালো বলতেই ফোনের ওপাশে থাকা ব্যক্তিটা ফোন কেটে দেয়। প্রতিদিন ফোন করে এরকম করার মানে কি আমি বুঝতে পারি না। একদিন ফোন রিসিভ করে কোন কথা না বলে এক ঘন্টা রেখে দিয়েছিলাম বাট ফোনের ওপাশের লোকটা ফোন কাটেনি যেই আমি বলছি, হ্যালো কে আপনি? একটু পর ওপাশ থেকে টু টু আওয়াজ ভেসে এলো। সেদিন আমি নিশ্চিত হয়েছি যে লোকটা শুধু আমার কন্ঠস্বর শোনার জন্যই প্রতিদিন ফোন করে। কিন্তু এই ব্যক্তিটা কে হতে পারে সেটাই তো বুঝতে পারছি না। আমার ভাবনার মাঝেই ফোন বেজে কেটে গেল। আমি ফোনটা পাশ থেকে নিয়ে বসা থেকে উঠতে যাবো এর মাঝেই আবার ফোনটা বেজে উঠলো। আমি কয়েক সেকেন্ড ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থেকে কি ভেবে যেন ফোনটা রিসিভ করলাম।
---"হ্যালো কে বলছেন?"(আমি)
ওপাশ থেকে কোন রেসপন্স নেই। আমি খানিকটা রাগী কন্ঠে বললাম,
---"কি হলো কোন কথা বলছেন না কেন? প্রতিদিন ফোন করে এভাবে চুপ করে থাকার কি মানে?"
তবুও কোন রেসপন্স নেই।
---"ডিসগাস্ট্রিং!"(আমি)
আমি রাগ করে ফোনটা কেটে দিতে যাবো এর মাঝেই একটা পরিচিতি কন্ঠস্বর আমার কানের কাছে বেজে উঠলো,
---"তুই নাকি আমাকে ভালোবাসিস। তাহলে আমার নিস্তব্ধতাটা কেন তুই উপলব্ধি করতে পারিস না? ভালোবাসার মানুষটার উচ্ছলতাই শুধু উপলব্ধি করতে পারিস। তার খিলখিল হাসির আওয়াজই শুধু তোর কানে বাজে। তার পেছনে লুকিয়ে থাকা দুঃখটা তুই দেখতে পারিস না?
তার প্রতিটি নিশ্বাসের শব্দে কি তোর হৃদয়ে তোলপাড় অনুভূতি হয় না? আমি কিন্তু তার প্রতিটি হৃদস্পন্দন উপলব্ধি করতে পারছি। সে আমার বিহনে কতোটা কাতর আমি শত ক্রোশ দূরে থেকেও তা উপলব্ধি করতে পারছি।"
আমি অবাক হয়ে বললাম,
---"ঈশান ভাইয়া!"
ওপাশ থেকে আর কোন রেসপন্স এলো না। কিছুক্ষণ পর শুধু কল কাটার টু টু আওয়াজ ভেসে এলো।
চলবে
পাট ২ লিংক.... https://www.effectiveratecpm.com/q9x37r63k?key=68e0826628e560a3838bfb66065b6788
